দেশের সরকার অনমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকসমুহে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের নিমিত্তে বিভিন্ন সময়ে জারীকত সকল সার্কুলার/অফিস আদেশ/প্রজ্ঞাপন সমহ সমন্বয়সাধণ করে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারী করা হলো: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বারক নং – বিবিধ-১৩(৯)/২০০৮(রাজ-৪)(অংশ-১)/১০৪৫ তারিখ: ২৬/০৮/২০১২ খ্রি।
ব্যাংক শাখা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নগদ সংরণের সিন্দুকসীমা অনুযায়ী শাখাসমহকে তিনভাগে ভাগ করা হলো। উল্লেখিত ছক অনুযায়ী অস্ত্রের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানসমহ কোন ক্যাটাগরীর হবে সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় কর্তৃক নিশ্চিত পূর্বক কতটি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন তা উল্লেখ করত: প্রত্যয়নপত্র প্রদান করতে হবে।
ক্যাটাগরী সিন্দুকসীমা .১২ বোর বন্দুক/শটগানের সংখ্যা গোলাবারুদের সংখ্যা
সি সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ০২টি সর্বোচ্চ ২০ টি
বি ১ কোটি টাকার উর্দ্ধে কিন্তু ৫ কোটি টাকার কম ০৩টি সর্বোচ্চ ৩০ টি
এ ৫ কোটি টাকার উর্দ্ধে ০৪টি সর্বোচ্চ ৪০ টি
যে ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান শাখার জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন হবে ঐ ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান শাখার নামে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লাইসেন্স ইস্যূ করবেন।
ব্যাংক/প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থ পরিবহনে নিয়োজিত নিজস্ব গাড়ীর প্রত্যেকটির জন্য একটি করে আগ্নেয়াস্ত্র এবং একজন করে গানম্যানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতদুদ্দেশ্যে, ক্যাশ ফিডিং এবং সাব ফিডিং শাখাসমহের জন্য ১ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত ক্যাটাগরী অনুযায়ী প্রযোজ্য আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যার অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন হলে উল্লেখ করতঃ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় কর্তৃক প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করতে হবে।
চরাঞ্চল, বনাঞ্চল, দুর্গম এলাকা কিংবা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক/ প্রতিষ্ঠানের শাখাসমুহ নিকটস্থ থানা হতে ৫ কিঃমিঃ এর বেশী দরত্বে অবস্থিত হলে অতিরিক্ত ১টি আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের/প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের প্রত্যায়ন পত্রের প্রয়োজন হবে।
ব্যাংক/প্রতিষ্ঠানের শাখা খোলার শুরুতেই, উক্ত শাখার জন্য নির্ধারিত সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাখা ব্যবস্থাপক কর্তক প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ সংশিস্নষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির জন্য প্রেরণ করবে। এ ক্ষেত্রে নতুন শাখা খোলার প্রত্যয়নপত্রু, আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় সংক্রান্ত প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা, প্রার্থীত আগ্নেয়াস্ত্রের ধরণ, আবেদিত ব্যাংক শাখা/প্রতিষ্ঠানের অর্গানোগ্রাম ও জনবল, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যাদি, ব্যাংকের/প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিবরণী, গার্ডের অনুকলে পুলিশ প্রতিবেদন, গার্ডের জীবন বৃত্তান্ত, গার্ডের অস্ত্র পরিচালনা সনদপত্র, বাড়ী ভাড়া চুক্তি ইত্যাদি আবেদনপত্রের সাথে সংযোজন করতে হবে। তবে শাখার কার্যক্রম শুরু হতে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির মধ্যবর্তী সময়ে অভ্যন্ত্মরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে শাখার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির ৫(পাচ) বছরের মধ্যে অস্ত্র ক্রয় না করলে লাইসেন্সটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। বাতিলকত লাইসেন্স পুনর্বহাল করা যাবে না।
ব্যাংকের/প্রতিষ্ঠানের অনকুলে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, অস্ত্রের ধরণ, বর্তমানে মালিকানায় আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা, শাখা খোলার প্রত্যয়নপত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় সংক্রান্ত প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা, অস্ত্র রিটেইনারের জীবন বত্তান্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন, অস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মচারীর সংখ্যা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সনদপত্রসহ আবেদনপত্র সরকারের বিবেচনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। এ সকল প্রতিষ্ঠান তার কর্মচারীদের মধ্য হতে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তিতে যোগ্য (আয়কর প্রদান ব্যাতীত) ব্যাক্তিদের প্রতিষ্ঠানের অনকুলে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের রিটেইনার নিযুক্ত করার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করবেন।
প্রত্যেকটি আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য প্রতিশাখায় অতিরিক্ত নন্যতম ১ জন গানম্যান নিয়োগ করতে হবে।
কোন কারণে গানম্যানের পদে শুন্য হলে শুন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ও সশস্ত্র গানম্যানের অস্ত্র পরিচালনা সনদ সংশিস্নষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জমা দিতে হবে।
দুই বছর পর পর কার্তুজ পরিবর্তন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরাতন কার্তুজ সংশিস্লষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জমা প্রদান করতে হবে।